ভোমরা স্থলবন্দর

সব ধরনের পণ্য আমদানির অনুমতি আছে সক্ষমতা নেই

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২৪ সালের আগস্টে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে গুঁড়ো দুধ ব্যতীত সব ধরনের পণ্য আমদানির অনুমতি দেয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২৪ সালের আগস্টে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে গুঁড়ো দুধ ব্যতীত সব ধরনের পণ্য আমদানির অনুমতি দেয়। কিন্তু প্রায় পাঁচ মাস হতে চললেও এর সুফল পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। এতে সরকার যেমন বড় ধরনের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটছে না। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, সক্ষমতা না থাকায় এখনই সব ধরনের পণ্য আমদানি সম্ভব নয়। কাস্টম হাউজ স্থাপনের পাশাপাশি বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে পারলে ব্যবসায়ীদের চাহিদামাফিক পণ্য প্রবেশ করানো সম্ভব হবে।

ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, সংগঠনের পক্ষ থেকে ভোমরা শুল্ক স্টেশনকে কাস্টম হাউজে রূপান্তর ও বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে সব ধরনের পণ্য আমদানির জন্য এনবিআরে আবেদন করা হয়েছে। তবে তাতে কোনো সাড়া মেলেনি।

জানা যায়, ১৯৯৬ সালে দেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা সাতক্ষীরায় ভোমরা স্থলবন্দরের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। ভোমরা থেকে ভারতের কলকাতার দূরত্ব কম হওয়ায় দ্রুত এ বন্দর দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটতে থাকে। দেশের বড় ব্যবসায়ীরাও এ বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে ২০১০ সালে ভোমরা স্থলবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ বন্দর হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। এর তিন বছর পর ২০১৩ সালে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরের কার্যক্রম শুরু হলেও কয়েক দফায় মাত্র ৭৩টি পণ্য আমদানির অনুমতি দেয়া হয়। এরপর থেকে ব্যবসায়ীরা সব ধরনের পণ্য আমদানির দাবি জানিয়ে আসছেন। একপর্যায়ে গত বছরের ২৯ আগস্ট ভোমরা বন্দর দিয়ে গুঁড়ো দুধ ব্যতীত সব ধরনের পণ্য আমদানির অনুমতি দেয় এনবিআর। কিন্তু প্রায় পাঁচ মাস হতে চললেও এখন পর্যন্ত বাড়তি কিছু কৃষিপণ্য ছাড়া অন্য সব পণ্য আমদানি করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।

ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুছা বণিক বার্তাকে জানান, ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর গত বছরের ২৯ আগস্ট গুঁড়ো দুধ ব্যতীত সব ধরনের পণ্য এ বন্দর দিয়ে আমদানির অনুমতি দেয়। কিন্তু বাস্তবে এ সুযোগ পাচ্ছেন না বন্দর ব্যবহারকারীরা।

তিনি বলেন, ‘আগে ৭৩ ধরনের পণ্য আমদানি করতে পারতেন ব্যবসায়ীরা। কিন্ত ২৯ আগস্ট সব ধরনের পণ্য আমদানির অনুমতি মিললেও বন্দরের সক্ষমতার অভাবে কয়েকটি কৃষিজাতীয় পণ্য ছাড়া অন্য কোনো পণ্য আমদানি করা যাচ্ছে না। এজন্য ভোমরা শুল্ক স্টেশনকে কাস্টম হাউজে রূপান্তর করাসহ বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এনবিআর চেয়ারম্যান বরাবর গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর লিখিত আবেদন করা হয়।’ কিন্তু অদ্যাবধি এর কোনো সুরাহা হয়নি বলে জানান তিনি।

এদিকে ভোমরা স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন আমদা‌নি-রফতা‌নিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স গনি অ্যান্ড সন্সের ব‌্যবস্থাপক অশোক কুমার। তিনি বলেন, ‘এখানে ওয়্যারহাউজ নির্মাণ করা খুবই দরকার। এর মাধ্যমে ব‌্যবসায়ীরা তাদের আমদা‌নীকৃত পণ্য খালাস করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গুদামে রাখতে পা‌রবেন।

বন্দরের ব‌্যবসায়ী ও আমদা‌নি-রফতা‌নিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিএম ক‌রপোরেশনের স্বত্বা‌ধিকারী আব্দুল গফুর সরদার জানান, গাড়ির যন্ত্রাংশ, কে‌মিক‌্যালসহ উচ্চ করযুক্ত পণ্য আমদা‌নি করে রাখার মতো ওয়্যারহাউজ এখনো এ বন্দরে নেই। পাশাপাশি বন্দরে ক্রেনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ বন্দরে ভা‌রী পণ্য খালাস করার মতো প্রযু‌ক্তি নেই।’ অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা গেলে রাজস্ব আয়ে এ বন্দর শীর্ষে অবস্থান করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি কমিশনার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ভোমরা স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করা না হলে সব ধরনের পণ্য আমদানি সম্ভব নয়। ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য আমদানি করার পর তা যদি সময়মতো খালাস করা না যায়, তবে বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হবে।’

আরও